Thursday, August 2, 2007

অম্বুজাচরণের প্রথম কেস্ (I)




একি রে, নস্টালজিক্ হয়ে পড়লেন নাকি?" ব্যাস রেবতীর কানে ফিসফিস্ করতেই সামনের চেয়ারে একটা সশব্দ আলোড়ন দেখা গেল। হাসি হাসি মুখে বললেন "সোজা কথা নাকি হে! তিরিশ বছর হয়ে গেল, এত হাই প্রোফাইল কেসের মাঝে প্রথমটার কথা ভুলেই গেছিলাম। অবশ্য সত্যি বলতে কি, গোয়েন্দগিরি আমার রক্তমজ্জায়।প্রথম কেস্ সেই হিসাবে নিয়েছিলাম ক্লাস থ্রী তে...." ব্যাস তাড়াতাড়ি বলে উঠল "আমাদের এডিটর আসলে আপনার প্রথম অফিসিয়াল কেস টাই কভার করতে বলেছেন" ঘরে বাজ পড়ল "শুদ্ধসত্ত্ব...ও কি বোঝে হে? যার গোয়েন্দাগিরিতে হাতেখড়ি সাত বছরে হতে পারে সে আজন্ম প্রফেশনাল্" রেবতী অম্বুজাচরণের হুংকারে এমন চমকে গেছিল যে হাত থেকে ক্যামেরা প্রায় পড়ে যায় যায়, এখন সেটা সামলাতে সামলাতে বলল "না না, সে কথা একশবার! কিন্তু অত বিচক্ষণ যে নন আমাদের এডিটর" আধ মিনিট্ ধরে দুলে দুলে হাসলেন "এ্যায়, এ্যায় হচ্ছে খাঁটি কথা" তারপর উত্তেজিত গলায় বললেন "মর্কট টার সামান্য বোধবুদ্ধি থাকলে হাওড়ার বাকসাড়ার কেসটার সময়েই আমার কথা ছাপত"

মিনিট খানেক সব চুপচাপ থাকার পর ব্যাস ভয়ে ভয়ে বলল "তাহলে আপনার প্রথম কেসটা.." "ওহে ছোকরা, জ্বালিও না তো....সেটার কথাই বলছি.....বাকসাড়ার মিত্রবাড়ি থেকে ফোনকল টা এসেছিল সকাল দশটা নাগাদ" "এক মিনিট, এক মিনিট" ব্যাস তাড়াতাড়ি বলে উঠল "আপনাকে চিনল কি করে?" অম্বুজা একটু কঠোর দৃষ্টিতে তাকালেন, "একবার-ও বলেছি আমাকেই ডেকেছিল?" ব্যাস একটু থতমত হয়ে চুপ করে গেল.


"ফোনটা এসেছিল পাশের বাড়ি থেকে পুল্টু কে ডেকে দেওয়ার জন্য. মিত্রবাড়ি হল ওর মামাবাড়ি. কোনো এক পাষণ্ড ওর মামাদের বড় আলমারি বেবাক ফাঁকা করে বাড়ির কাজের লোকটির মাথায় মেরে অজ্ঞান করে চলে গেছে" রেবতী বলল "আগে চুরি করে তারপর মেরেছে? ভেরি স্ট্রেঞ্জ" অম্বুজাচরণ প্রশংসাসূচক দৃষ্টিতে তাকালেন "বাহ্! হ্যাঁ, এক্স্যাক্টলি সেটাই ঘটেছিল। আগে মেরে তারপর চুরি নয়"। যাই হোক্, সব শুনে আমিও ভিড়ে পড়লাম পুল্টুর সঙ্গে, বোঝোই তো.....তখন যাকে বলে ইয়ং ব্লাড" রেবতী ছোট্ট করে একটু চোখ টিপল ব্যাস কে.
"যাই হোক, যখন পৌছলাম দেখি হুলুস্থুলু কাণ্ড. পুল্টুর দিদা আর তিন মামীমা ভয়ংকর কাঁদছেন, ওর ফচকে দুটো মামাতো ভাই-ও ভাজা মাছ কি তাই জানে না মুখ করে দাঁড়িয়ে. ওর দাদুর হুংকারে বাড়ির বাকিরা, ইনক্লুডিং তিন মামা তটস্থ হয়ে আছে. শুনলাম থানার দারোগা এসে বাড়ির রাঁধুনি কে দেখে নেবার হুমকি দিয়ে চলে গেছেন. পুল্টুর সঙ্গে আমিও একবার আগাগোড়া ঘটনাটা শুনলাম, যদিও বিশেষ কিছুই নয়. রাত্রিবেলা কেউ কিছু টের পায়নি; সকালবেলা বড়মামা উঠে প্রথমে ঠাকুরদালানে ওদের কাজের লোক মধুগোপালকে পড়ে থাকতে দেখেন. তারপর-ই টের পান যে পুল্টুর দাদুর ঘর হাঁ করে খোলা এবং ঘরের ভেতর আলমারি পুরো খাঁ খাঁ করছে; যদিও দাদু এবং দিদা দুজনেই অঘোরে ঘুমোচ্ছিলেন. মধুর কথা অনুযায়ী ভোরের দিকে কিছু খচরমচর শব্দে ওর ঘুম ভেঙ্গে যায়. উঠে দেখতে যাওয়ার আগেই মাথায় বাড়ি এবং সব অন্ধকার. আলমারিতে কি আছে মামারাও জানতেন না; দাদুকে ঘুম থেকে ওঠানোর পর জানা যায় নগদ তিরিশ হাজার টাকা এবং প্রায় বিশ ভরির গয়না স্রেফ ভ্যানিশ্!"
একটু মুচকি হেসে রেবতী কে জিজ্ঞাসা করলেন "কি বুঝলে?" "সেরকম কিছুই তো না"....."হেঁ হেঁ, তাহলে তো হয়েই যেত গো. আমি কিন্তু বুঝেছিলাম তক্ষুনি , গণ্ডগোল - বেজায় গণ্ডগোল. ওইটুকু শুনেই স্পষ্ট বুঝলাম - মধু মিথ্যে বলছে, কিন্তু ও চুরি করেনি এবং চুরির সঙ্গে একাধিক ব্যক্তি জড়িত"